নিজস্বপ্রতিবেদক:
ঢাকায় দিনদিন সবুজ বৃক্ষ কমে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে। আবার পাশ্চাত্য দেশের আদলে এই রাজধানীতে একের পর এক তৈরি হচ্ছে কাঁচঘেরা সুউচ্চ ভবন। এতে তাপমাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়ে যেন আগুন ঝরাচ্ছে। ধীরে ধীরে রাজধানী উত্তপ্ত নগরীতে নগর পরিণত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ২৫টি এলাকাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘ফিজিবিলিটি স্টাডি অন হিট ওয়েভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক গবেষণায় এসব চিত্র উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূখণ্ডের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা অপরিহার্য। অপরদিকে একটি আদর্শ শহরের মোট আয়তনের অন্তত ২০ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে উদ্বেগজনক হলেও সত্য-কোটি মানুষের রাজধানী ঢাকায় সবুজায়ন রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এর মধ্যেও যখন-তখন গাছ কাটা হচ্ছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বহু দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থা বিবেচনা করে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ নিয়ে কাজ করছে। সেখানে কোনোকিছু বিবেচনায় না নিয়েই রাজধানীর গুলশান, বনানী, মতিঝিল, পল্টন, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারের অফিসপাড়ায় গা লাগানো সুউচ্চ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ভবন দৃষ্টিনন্দনের দোহাই দিয়ে পাশ্চাত্য দেশের আদলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের শীতলতা আর কাঁচের দেয়ালে ঘেরা। এসব ভবনের দাবদাহ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো শহরে। যার ফলে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকার গাছ বা বনাঞ্চলও কমছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে- গরম বা তীব্র দাবদাহের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকা ছাড়বে। সেই সঙ্গে রাজধানী ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
তারা আরো বলেন, কাঁচঘেরা ভবনের তাপমাত্রা শীতল রাখতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহারের প্রভাবে বাইরের চারপাশে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এতে তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে চারপাশে। যার প্রভাব শুধু সুউচ্চ ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে পড়ছে এমন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সর্বসাধারণ। ফলে ক্রমেই তাপীয় দ্বীপ হয়ে উঠছে ঢাকা। অথচ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) কর্তৃপক্ষ কাঁচের ভবন নির্মাণে তেমন কোনো বাধাই দিচ্ছে না। এসব ভবনের কোনো তালিকাও তাদের কাছে নেই।
যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, ১ হাজার ৮১৮টি বহুতল ভবনের ৮৪ শতাংশই নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
Leave a Reply